মিয়ানমার সীমান্তে বিডিআরের সতর্কতা বৃদ্ধি
২ মার্চ, ২০১১ ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা, নভেম্বর ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) -- টেকনাফ ও বান্দরবানে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সতর্কতা জারি করেছে। সীমান্তের বিভিন্ন ফাঁড়িতে বিডিআরের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধিও করা হয়েছে।

বিরোধপূর্ণ সাগরে মিয়ানমারের খনিজ অনুসন্ধান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে কারণে বিডিআর এ ধরনের সতর্কাবস্থা গ্রহণ করেছে একজন ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বিডিআরের পরিচালক (অপারেশন) কর্নেল আনিস-উজ-জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শনিবার সন্ধ্যায় জানান, সাগরের বিরোধপূর্ণ এলাকায় মিয়ানমারের তেল অনুসন্ধান নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির সুরাহা না হওয়ার কারণে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সর্তকাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিডিআর এর অতিরিক্ত টহল পরিচালনা এবং জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইফতেখার আহমদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সাগরে অনুসন্ধান পরিচালনাকারী সংস্থা দাইয়্যু আমাদের বলেছিল, ৭ নভেম্বর রাত থেকে তারা তাদের যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিতে শুরু করবে। পুরোপুরি সরে যেতে তাদের কয়েকদিন সময় লাগতে পরে।"

উপদেষ্টা আরো বলেন, "মিয়ানমার তাদের জাহাজ সরিয়ে না নিলে আমাদের নৌবাহিনী সেখানে যাবে।"

এদিকে বাংলাদেশ সীমান্তের অদূরে আরাকান রাজ্যের মংডু শহর ও আশপাশের এলাকায় মিয়ানমার গত দু'দিন ধরে সৈন্য সমাবেশ ঘটাচ্ছে বলে টেকনাফের স্থানীয় লোকজন ওই দেশের ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে সেন্টমার্টিনের প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে শুক্রবার সন্ধ্যায়ও মিয়ানমারের তিনটি জাহাজকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এই তিনটি জাহাজকে পাহারা দিচ্ছে সে দেশের আরও কয়েকটি জাহাজ।

এর সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ ৪২ রাইফেল ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল খালেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ওই এলাকায় (সেন্টমার্টিন) এখনও মিয়ানমারের তিনটি জাহাজ অবস্থান করছে।"

বাংলাদেশও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ওই এলাকায় জাহাজ পাঠিয়েছে।

সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ এলাকায় মিয়ানমারের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো এবং তাদের জাহাজ প্রবেশের ঘটনায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ১০৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বৃহস্পতিবার বিডিআর সতর্কতা জারি করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নবাব আসলাম হাবিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সীমান্তে বিডিআর ও নাসাকা উভয়পক্ষই অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টহল জোরদার করেছে।

তিনি জানান, বিডিআর এর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আকতারের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল শনিবার উপজেলার তুমব্র, চাকঢালা, আমতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহিম শাওন জানান, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাসাকাকেও সতর্ক অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। তারাও সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি টহল জোরদার করেছে।

শুক্রবার রাতে সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানালেও বিডিআর ও প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে।

সীমান্তে উত্তেজনা বা শক্তি বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি জোনের বিডিআর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নঈমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের কথা স্বীকার করেন।

আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, টেকনাফের প্রায় ৪০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বিডিআর সতর্কাবস্থা জারি করেছে।

টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য নিয়ে আসা মিয়ানমারের একাধিক ব্যবসায়ীর বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফের কয়েকজন ব্যবসায়ী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, মংডু ও আশপাশের এলাকায় নাসাকার অন্তত ১১টি ফাঁড়িতে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নাসাকা বাহিনীর সদস্যদের টহলে রেখেছে।

টেকনাফ ৪২ রাইফেল ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল খালেকও ওই সীমান্তে বিডিআরের টহল জোরদার ও সংখ্যাবৃদ্ধির সত্যতা নিশ্চিত করেরছেন।

তবে কর্নেল আব্দুল খালেক জানান, মিয়ানমার তাদের সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ঘটাচ্ছে কিনা সেটা তাদের জানা নেই।

সীমান্তে বিডিআরের টহল এবং ওপারে নাসাকার শক্তি বৃদ্ধি করার কথা শুনে সেন্টমার্টিনের কয়েকশ' মাছ ধরার ট্রলার শনিবার থেকে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে।

সেন্টমার্টিনের জেলে করিম উল্লাহ (৩৮) বলেন, সম্ভাব্য উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় তারা মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ খান জানান, সেন্টমার্টিনের বিপরীতে মিয়ানমারের গদুছড়া, নাকফুরা ও নাক্ষ্যংদিয়ায় ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ ঘটানোর খবর পাওয়া গেছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় টেকনাফ থেকে দু'টি জাহাজে করে ২০০ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গেছেন। সন্ধ্যায় তারা ওই জাহাজে করে কোনো সমস্যা ছাড়াই আবার টেকনাফে ফিরেছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মনজুর আলম ভূঁঞা বলেছেন, সীমান্তে বিডিআর স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। অতিরিক্ত সতর্কতার বিষয়টি তার জানা নেই।

কক্সবাজার ৮ রাইফেলস ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক মেজর সাজ্জাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নাইক্ষ্যংছড়ির ধুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীপক বড়–য়া ফোনে বলেন, "বিভিন্নজনের মাধ্যমে খবর পাওয়া যাচ্ছে নাসাকা সীমান্তের ওপারে সৈন্য সমাবেশ করছে। তবে নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।"

-
পাঠকের মন্তব্য