সিডিএর ১৮ প্রকৌশলী ও ২২ ঠিকাদার বিচারের মুখোমুখি
২৬ জুলাই, ২০১২ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সড়ক উন্নয়নের কাজে অর্থ আত্মসাতের দায়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ৪১ প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৭টি মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবুর রহমানের আদালত থেকে এসব মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর আদেশ দিয়ে ১৭টি মামলার নথি পাঠানো হয়েছে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে।

তবে সংস্থার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নূর হোসেন পলাতক থাকায় ৫টি মামলার বিচার পিছিয়ে গেছে। নূর হোসেনকে আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজিরের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৭টি মামলায় সিডিএর ১৮ প্রকৌশলী ও ২২ ঠিকাদারসহ ৪০ জন গতকাল বুধবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। আদালত তাদের জামিনের মেয়াদ আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করেন।


উল্লেখ্য, কালুরঘাট রোড উন্নয়ন ও সমপ্রসারণ প্রকল্পের ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানায় দুদকের দ-বিধি ৪০৯/১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার পৃথক পৃথকভাবে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের পাঁচ কর্মকর্তা বাদী হয়ে দায়ের করা এ মামলায় সিডিএর ২৫ প্রকৌশলী এবং ২২ ঠিকাদারসহ ৪৭ জনকে আসামি করা হয়। কিন্তু পরে তদন্তে ৬ জনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এর মধ্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুর হোসেন বর্তমানে পলাতক।


এসব মামলার আসামিরা হলেন_ সংস্থার সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আলম, এম এ এন হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ মনজুর হাসান, মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নুরুল আমিন ভূঁইয়া, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান, রাজীব দাশ, মোহাম্মদ ইলিয়াস, উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওসমান শিকদার, মোহাম্মদ হামিদুল হক, ইস্টিমেটর সৈয়দ গোলাম সরোয়ার ও রুপম কুমার চৌধুরী। অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, রেহানা ট্রেডিংয়ের জসিম উদ্দিন, মেসার্স আর আর এন্টারপ্রাইজের মোহাম্মদ বশর, মেসার্স ফারা অ্যান্ড কোম্পানির সৈয়দ মোহাম্মদ জহিরুল হক, মেসার্স বিল্ড টেক অ্যাসোসিয়েটসের মোহাম্মদ ইউনুস গণি চৌধুরী, মের্সাস পি এইচ ইন্টারন্যশনালের ওয়াহিদুজ্জামান পিণ্টু, মেসার্স ফারিয়াজ কনস্ট্রাকশনের রফিকুল ইসলাম, মেসার্স ন্যাশনাল বিল্ডার্সের মোহাম্মদ শামসুল আলম, এম রহমান অ্যাসোসিয়েটসের আবদুস সালাম, নেজাম এন্টারপ্রাইজের মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, মেসার্স খালেদ এন্টারপ্রাইজের মোহাম্মদ খালেদ বিন আলম, মেসার্স এসআই ইঞ্জিনিয়ারের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মেসার্স নাইস এন্টারপ্রাইজের মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী চৌধুরী, মেসার্স আফসানা বিল্ডার্সের আব্দুস সালাম, মেসার্স এম এম আলম ব্রাদার্সের মোহাম্মদ নুরুল আলম, তায়েব ব্রাদার্সের মোহাম্মদ মমতাছির মামুন, মেসার্স আমান করপোরেশনের মোহাম্মদ আমান, জসিম অ্যান্ড সন্সের এ কে এম জসিম উদ্দিন, মেসার্স সালেহ জহুর বিল্ডার্সের সালেহ জহুর, জেসি এন্টারপ্রাইজের নাছির উদ্দিন, মেসার্স মাসুদ অ্যান্ড কোম্পানির মোহাম্মদ মাসুদ, এস বি ট্রেডিংয়ের কাজী বেলাল উদ্দিন, মেসার্স নুর মোহাম্মদ সেনিটারি অ্যান্ড মার্টের মোহাম্মদ নূর মোহাম্মদ ও মেসার্স আশা কনস্ট্রাকশনের নিতাইপদ চৌধুরী।

পাঠকের মন্তব্য