বেদনানাশক ওষুধ কালো মাম্বা সাপের বিষ থেকে!
১১ অক্টোবর, ২০১২ ১:০৫ অপরাহ্ণ
-

কালো মাম্বা সাপকে আফ্রিকার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও দ্রুত গতিসম্পন্ন সাপ হিসেবে মনে করা হয়। এ সাপ শিকারকে মেরে ফেলার জন্য নিউরোটক্সিন জাতীয় বিষ ব্যবহার করে। ইঁদুরের মতো ছোট ছোট প্রাণী এ সাপের প্রধান শিকার।  কালো মাম্বা কামড় দেয়ার পর এ সব শিকার আর নড়াচড়া করতে পারে না।

আফ্রিকার কালো মাম্বা সাপের বিষ থেকে বেদনানাশক শক্তিশালী ওষুধ তৈরি করা যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। কার্যকারিতার দিক থেকে এ ওষুধ মরফিনের মতই শক্তিশালী হবে। কিন্তু মরফিনের বেশিরভাগ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এতে থাকবে না।

ফরাসি চিকিতসা বিজ্ঞানীরা এ সাপের বিষে বেদনানাশক উপাদানের খোঁজ পেয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে নেচার নামের খ্যাতনামা গবেষণা সাময়িকীতে। কালো মাম্বার বিষের বেদনানাশক এ উপাদানের নাম মাম্বালগিনস। এটি এক জাতের আমিষ।  সাপের বিষে  বেদনানাশক এ উপাদানের উপস্থিতি চিকিতসা বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দিয়েছে। তারা ঠিক বুঝতে পারছেন না, প্রাণঘাতী বিষে কেন এ বেদনানাশক উপাদান থাকবে!

 বেদনানাশক উপাদান খুঁজতে যেয়ে এর আগে তারা ৫০ প্রজাতির সাপের বিষ পরীক্ষা করেছেন। কালো মাম্বা সাপ থেকে সংগ্রহ করা বেদনানাশক উপাদান পরীক্ষামূলকভাবে ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করেন ফরাসি গবেষক দলটি।

মরফিন তীব্র আসক্তির সৃষ্টি করে। এ কারণে মরফিনের মাদক হিসেবে অপব্যবহারের প্রচলন আছে। এ ছাড়া, মরফিন দিলে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়, বমি হতে পারে এবং হতে পারে পেশির খিচুনি।  মরফিন ব্যবহারে স্বাভাবিক চিন্তা শক্তিরও বিঘ্ন ঘটে। কিন্তু কালো মাম্বা সাপের বিষে এ রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার বেশির ভাগই নেই।

মানুষ আর ইঁদুরের বেদনাবোধ প্রায় একই রকম। তাই গবেষকরা মনে করছেন, মানুষের বেদনা কমানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে মাম্বালগিনস। এ ছাড়া, গবেষণাগারে মানব-কোষকলার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে এ উপাদান। গবেষকরা দেখতে পান, ইঁদুরের দেহে যে রকম রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে একই প্রতিক্রিয়া হচ্ছে মানব কোষকলায়ও।

তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রাণী দেহে আরো অনেক পরীক্ষা চালাতে হবে। তারপর বোঝা যাবে মানুষের দেহে এটি সঠিকভাবে কাজ করবে কিনা। কিন্তু তা সত্ত্বে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এবার হয়ত নতুন জাতের বেদনানাশক তৈরি হবে।

পাঠকের মন্তব্য